বিশেষ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও জিও-পলিটিক্যাল এনালিস্ট)
ওয়াশিংটন/তেহরান, ৩ এপ্রিল ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তাঁর স্বভাবজাত ‘ডিল-মেকার’ বা ব্যবসায়িক বুদ্ধিকে বিশ্ব রাজনীতির ময়দানে নিয়ে এসেছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, হাতে সামান্য সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র অনায়াসেই হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসন করতে সক্ষম। তবে ট্রাম্পের এই দাবির পেছনে শান্তির চেয়ে ‘তেল ও মুনাফা’র গন্ধই বেশি পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ। প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইতিহাসের শিক্ষা: ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকেই এই প্রণালিকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে রশি টানাটানি চলছে। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ‘ট্যাঙ্কার যুদ্ধ’ (Tanker War) বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি: ট্রাম্প যখন একে ‘তেলের বিশাল উৎস’ বা ‘গাশার’ হিসেবে অভিহিত করছেন, তখন তিনি মূলত ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি তেল দখলের কৌশলের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এটি ১৯৭০-এর দশকের এনার্জি ক্রাইসিসের সময়কার মার্কিন আগ্রাসী নীতির কথা মনে করিয়ে দেয়।
ট্রাম্পের বার্তায় একটি বিষয় পরিষ্কার—তিনি হরমুজ প্রণালিকে কোনো মানবিক বা কূটনৈতিক সংকটের জায়গা হিসেবে দেখছেন না, বরং একে দেখছেন একটি ‘বিশাল প্রফিট মার্জিন’ হিসেবে।
বিশ্লেষণ: ইরান যখন তাদের উপকূলে অবরোধ দিয়ে বিশ্ববাজারকে চাপে রাখছে, ট্রাম্প সেখানে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে পথ উন্মুক্ত করার কথা বলছেন। তাঁর মতে, এই পথ খুলে দিলে যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে তেল সংগ্রহ করে বিপুল মুনাফা অর্জন করবে। এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন (UNCLOS) এবং সার্বভৌমত্বের সংজ্ঞাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আলজাজিরার সূত্র অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরের মাঝেই ট্রাম্পের এই পোস্ট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কৌশলগত সংযোগ: ইসরায়েল যখন ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, ট্রাম্প তখন নজর দিচ্ছেন ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন ‘হরমুজ’—এর ওপর। এটি মূলত ইরানকে ভাতে ও পানিতে মারার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নয়, এটি ইরানের প্রতি একটি আল্টিমেটাম। যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়, তবে এটি ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ বা অন্ততপক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ ডেকে আনতে পারে। ট্রাম্প একে অনায়াস কাজ মনে করলেও, আধুনিক ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে সজ্জিত ইরানের নৌবাহিনী একে কতটা ‘সহজ’ হতে দেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ট্রাম্পের পরিকল্পনা/দাবি | সম্ভাব্য প্রভাব |
| অর্থনীতি | তেল সংগ্রহ করে বিপুল মুনাফা। | বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও মার্কিন আধিপত্য বাড়বে। |
| সামরিক | খুব সহজে প্রণালি উন্মুক্ত করা। | ইরান ও তার প্রক্সি বাহিনীর (হিযবুল্লাহ/হুথি) সাথে সরাসরি যুদ্ধ। |
| ভূ-রাজনীতি | মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পরিবর্তন। | চীন ও রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত তীব্র হওয়া। |
| জ্বালানি নিরাপত্তা | তেলের বিশাল উৎস (গাশার) উন্মুক্ত করা। | মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ওপেকের (OPEC) নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়া। |
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও প্রমাণ করলেন যে তাঁর পররাষ্ট্রনীতি আবর্তিত হয় ডলারের বিনিময়ে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে তাঁর এই ‘চাঞ্চল্যকর’ বার্তা যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা চিরতরে বদলে যেতে পারে। তবে সেই পরিবর্তন কি তেলের নহর বইয়ে দেবে, নাকি রক্তের গঙ্গা—তার উত্তর লুকানো আছে সামনের দিনগুলোর রণকৌশলে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |